
দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা দিন দিন গভীর হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এর প্রভাব এখন ভারতের মাটিতেও দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক এই অস্থিরতা ভারতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন গণবিক্ষোভে রূপ নিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান। আর নেপালে সামাজিক মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের জেরে সৃষ্ট ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি দেশত্যাগ করেন।
এবার ভারতের বিহার রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের পদ কমানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী পাটনায় কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ তরুণ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা শুধু চাকরি নয়, ন্যায্য সুযোগ ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের বেকারত্বের হার ক্রমেই বাড়ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, বিরোধী দলকে দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা—এসব কারণ তরুণ সমাজকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। এমনকি সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ভারতে সেনা অভ্যুত্থানের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না।
প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ভারতের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, মোদি সরকার যদি বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে বর্তমান ক্ষোভ দ্রুত দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।