
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকজনকে বেধড়ক পেটাতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পোশাক খুলে ও ছিঁড়ে যায়। আজ রোববার বেলা ১১টার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে।

জিয়ার সৈনিক এক হও’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান দিয়ে একদল লোক তাঁদের পেটায়। একজনকে পেটানোর সময় পুলিশকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। যাঁদের পেটানো হয়েছে, তাঁদের কয়েকজনকে পুলিশকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যুবলীগের কর্মী নূর হোসেন বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে রাজপথে মিছিলে নেমেছিলেন। সেদিন পুলিশের গুলিতে তিনি মারা যান। ১৯৮৭ সালে এ ঘটনা ঘটে। আজ শহীদ নূর হোসেন দিবসে বেলা তিনটায় ঢাকার জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেন চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

দলটির ওই কর্মসূচির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে গতকাল শনিবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এক ফেসবুক পোস্টে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজপথে কোনো মিছিল-সমাবেশ বা কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলটির এক নেতা এলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন উপস্থিত ছাত্র-জনতা।
রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই আটক নেতার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

উপস্থিত জনতা জানায়, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে এই নেতা তার কয়েকজন কর্মী নিয়ে কার্যালয়ে এসেছিলেন। উপস্থিত ছাত্র-জনতা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ সময় তার সঙ্গের কর্মীরা পালিয়ে যান।
এর আগে শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে একজনকে আটক করে স্থানীয় কয়েক যুবক।

স্থানীয়রা জানায়, আটক ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ‘এ’ টিমের সদস্য। তার মোবাইল ফোনের গ্যালারিতে সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্টার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সরকারবিরোধী বিভিন্ন তৎপরতার প্রমাণও পেয়েছেন উপস্থিত লোকজন। রোববার (১০ নভেম্বর) রাজধানীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে তারা হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়।

তারা আরও জানায়, আওয়ামী লীগের ওই কর্মীকে আটকের পর তিনি দুই তিন লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন।

অন্য আরেক যুবক জানায়, আওয়ামী লীগের ওই কর্মী ড. ইউনূসের ফাঁসি চেয়ে ফেসবুকে অনেক পোস্ট করেছেন। তাকে আটকের পর পল্টন থানায় জানানো হয়েছে। পুলিশ এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আটক ব্যক্তি নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী বলে স্বীকার করে জানান, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে আসেননি।সূত্র,কালবেলা, প্রথম আলো