দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থানের পর বাংলাদেশে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তার দেশে ফেরা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলনের ভাটার সময় পেরিয়ে দলকে আবারও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় করতে তারেক রহমান সরাসরি নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমান ওই দিন প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, সিলেটের এই জনসমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি হবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম বড় ধরনের জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক বার্তা। সমাবেশ থেকে আগামী দিনের আন্দোলন, দলীয় পুনর্গঠন এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও দলের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তবে সরাসরি দেশে উপস্থিত না থাকায় মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে যে ঘাটতি ছিল, তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
সিলেট জনসমাবেশকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পোস্টার, ব্যানার ও মিছিলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, এই সমাবেশে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসমুদ্রে রূপ নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে জনসমাবেশের মাধ্যমে মাঠে নামা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এটি বিরোধী রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করবে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও আসন্ন সিলেট জনসমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—এই সমাবেশ থেকে আসা বার্তা আগামী দিনের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়।