
বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন সিলেট টাইটান্সের ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। তবে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে নামার সময় সমীকরণটা ছিল অনেক কঠিন—শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ২৪ রান।
বিনুরা ফার্নান্দোর দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ওকস যেন আবারও আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু পুরো ম্যাচজুড়ে সিলেটের ব্যাটসম্যানদের শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বইয়ে দেওয়া এই শ্রীলঙ্কান পেসার শেষ চার বলে আর কোনো সুযোগই দেননি। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে এনে দেন ১২ রানের জয়। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয় রাজশাহীর ফাইনাল টিকিট।
দ্বিতীয় সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আগামী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ফাইনালে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল চট্টগ্রাম—শিরোপার সঙ্গে সেদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও থাকছে রাজশাহীর সামনে।
১৩৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে যখন চরম বিপাকে পড়ে সিলেট টাইটান্স, তখন শেষ ভরসার নাম ছিল ক্রিস ওকস। এলিমিনেটরে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে যিনি দলকে জিতিয়েছিলেন, সেই ওকসের দিকেই তাকিয়ে ছিল পুরো শিবির। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৪ রান, কিন্তু একটি ছক্কার বেশি আদায় করতে পারেননি তিনি। তাতেই থামে সিলেটের স্বপ্নযাত্রা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৫ রান। জবাবে সিলেট টাইটান্স থামে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। জাকির হাসান ও আরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে দেন বিনুরা ফার্নান্দো। চাপের মুখে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান স্যাম বিলিংস। তবে দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে ইমন বিদায় নিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও চলে যায় রাজশাহীর হাতে।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিলেট। এক পর্যায়ে জীবন পেলেও বিলিংস বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। আফিফ হোসেন কিছুটা আশা জাগালেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি গিয়েও ১২ রানের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিলেট।
সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন (৩৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কা)। বিলিংস করেন ৩৭ রান, আফিফ যোগ করেন ২১ রান।
রাজশাহীর হয়ে বল হাতে নায়ক বিনুরা ফার্নান্দো। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
এর আগে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী শুরুটা ভালো করলেও মাঝপথে ছন্দ হারায়। দলীয় ৮০ রানের মধ্যেই পড়ে যায় প্রথম সারির ৫ উইকেট। সংকটের মুহূর্তে এক প্রান্ত আগলে রাখেন কেন উইলিয়ামসন। জেমস নিশামের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া ৭৭ রানের জুটি।
উইলিয়ামসন অপরাজিত থেকে ৩৮ বলে ৪৫ রান করেন। নিশাম খেলেন ২৬ বলে ৪৪ রানের কার্যকর ইনিংস। তানজিদ হাসান করেন ৩২ রান, সাহিবজাদা ফারহান করেন ২৬ রান।
সিলেটের বোলারদের মধ্যে সালমান ইরশাদ নেন ৩ উইকেট। নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। তবে সব হিসাব শেষে শেষ হাসিটা হাসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স—ফাইনালের মঞ্চে পা রেখে।