1. sdamit152@gmail.com : Amit Sutradhar : Amit Sutradhar
  2. anandahotcool@gmail.com : Ananda Dada : Ananda Dada
  3. BishwajitSutradhar2687@gmail.com : Bishwajit Sutradhar : Bishwajit Sutradhar
  4. admin@dailyajkernews.com : dacaught :
  5. dinmdrajib2016@gmail.com : Din Md Rajib : Din Md Rajib
  6. mdpallabsarkar6@gmail.com : MD Pallab Shorwer : MD Pallab Shorwer
  7. padistsagor1234@gmail.com : Sagor Badhsa : Sagor Badhsa

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত বাউবি: প্রশাসনের কঠোরতার আশ্বাস

প্রতিবেদক / ১৯০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাউবির বয়স ৩২ বছর। মাত্র ১৫ বছর আগের গড়া ডজনখানিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন সঠিকভাবে পরিচালিত, লক্ষ্য ও সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হলেও টার্গেট পুরণে দিন দিন পিছিয়ে পড়েছে বাউবি, এমনটা মনে করেন অনেক শিক্ষাবিদ। এর ফলে শিক্ষা জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তাদের মতে, শুধু দিবস পালন, ওয়ার্কসপ, সেমিনার, আলোচনা সভা, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধন ও কারিকারি টাকার অপব্যয় আর লোক দেখানো কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে দিনগুজার করছে বাউবি। অন্যদিকে, প্রত্যেকটি পরীক্ষার সেশনজট, সঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়া, রেজাল্ট না দেয়া, সার্টিফিকেট সংশোধনে জটিলতা, ভুলে ভরা নম্বরপত্র, সেবা প্রদান না করা, ক্লাশ না হওয়া, শিক্ষকদের অপেশাদার আচরন বাউবির স্বাভাবিক ব্যাধী। বছরের পর বছর এগুলোর নেই কোনো সমাধান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এখানকার চিত্র আরো ভিন্ন। শিক্ষক কর্মকর্তারা অতীতের কর্মকান্ডের জন্য হয়েছেন বিতর্কিত। ভেতর বাইরে চলে চক্রান্ত। এমন কী, অফিস সহায়ক উপাচার্যের নির্বাচনী এলাকার সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে গুজব ছড়ায়! ফলে ইমেজ সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পত্রিকা, অনলাইনে উঠে এসেছে বাউবির চিত্র। বাউবিতে কর্মরত লোকজনের নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, অতি রাজনীতি ও অপেশাদারের চিত্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

উপাচার্যের দপ্তরের যুগ্ম পরিচালকের ছবি দেখা গেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দীনের সাথে।
উপ-পরিচালক বদরুল ইসলামের নামে অভিযোগ অসংখ্য, শীতকালে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বধর্নের নামে নয়-ছয়, টাকা উত্তোলন আর সার গোবর মাটির নামে ভুতুরে বিল জমা, ক্যাম্পাসের সবজি ফলমূল ইত্যাদি থেকে তিনি একটি নির্দিষ্ট অংকের বখরা পান এবং এবং সাবেক রেজিস্টারকে তিনি খুশি করতে এসবের অংশ দিতেন।
সাবেক উপাচার্য এম এ মান্নান ও সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের পরিবারের সাথে মিশে গিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিলে ওস্তাদ মানুষ হিসেবে পরিচিত শেখ সাদেকুর রহমান। ৫ আগস্টের আগে নিজ পরিবারের ৬ জনকে চাকুরী দিয়ে বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে বদলী করেন উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার শেখ সাদেকুর রহমান। ছিলেন ডেসপাস রাইডার, এসএসসি এইচএসসিতে পান তৃতীয় বিভাগ অথচ অনার্স মাস্টার্সে উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে জিপিএ ৩.৫০ পান। উপাচার্য হুমায়ুন আখতার তাকে সরাসরি অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেন। শিক্ষক কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ৫ আগস্টের পর শুরু করেন বদলী বাণিজ্য। বাউবিতে লোক নিয়োগ শেখ সাদেকের অন্যতম উপার্জনের উৎস। তবে, মেয়র তালুকদার আসার পর থেকে সকল দিকে কোনঠাসা এখন সে।
সম্প্রতি আলোচিত কর্মচারী হালিমা খাতুন, তার মেয়ে ও জামাই একসাথে দুইজন ডাক্তার হিসেবে নিয়োগ পান বাউবি মেডিকেল শাখায়। এ নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। অতীতে ডিনকে খুশি করে পরিবারের আরো ৩জন সদস্যকে চাকুরীর ব্যবস্থা করেন হালিমা। ড্রাইভার রুহুল তার পরিবারের ৫ জন, সাইফুল পান্নু ৬ জন, বাংলোর কেয়ারটেকার কাইয়ুম তার শালা নোমান, ভগ্নিপতি নুরুলকে নিয়োগ দিয়েছিলো। ট্রেজারারের দপ্তরের কর্মচারী সোহরাব হোসেন এক সময় বাংলোয় কাজ করতেন। সুমন, হামিদুল ও মোমিন নামের ৩ জনকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকুরী নিয়ে দেন সোহরাব। নিয়োগ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আওয়ামী-বিএনপি-জামায়াত বলে এদের কাছে কিছু নেই। তবে, বদলীর ক্ষেত্রে কে আওয়ামী লীগ, কে জামায়াত কে বিএনপি সেটা বিবেচ্য।

জাতীয় সংসদ- ২০২৪ নির্বাচনে বরিশালে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাউবির অডিট শাখার যুগ্ম পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়া। বর্তমান প্রশাসনে তিনি পেয়েছেন শাখা প্রধানের দায়িত্ব।

বাউবির প্রভাবশালী সাবেক প্রো-উপাচার্য মাহবুবা নাসরীনের ধূর্ত একান্ত সচিব মোছা. ফেরদৌসী বেগম আওয়ামী আমল এবং বর্তমান, দুই সময়ে রাজত্ব করছেন সমানতালে। এ তালিকায় আরো আছেন, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) দপ্তরের শ্যামা কান্তি রায়, ট্রেজারের দপ্তরের মো. ওয়াহিদুজ্জামান হাওলাদার, রেজিস্ট্রারের দপ্তরের মুস্তাক আহম্মেদ, সাইদার রহমান পাভেল, নিকচন মিয়া। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শেখরের আত্মীয় বাউবি প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহরিয়ার করিম এখনো দাপটের সাথে কর্মরত। শাহরিয়ারের বাবা মাগুড়া আওয়ামী আইজীবী পরিষদের সভাপতি এবং ছোট চাচা জেলা যুবলীগের সভাপতি। প্রশাসনের অতি গোপন শাখায় অদক্ষ, দোসর এই কর্মকর্তা ১৪ বছর ধরে একই পদে কর্মরত কীভাবে তা নিয়ে আছে রহস্য। এই শাখার আরেক কর্মকর্তা মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে আছে ফাইল টেম্পারিং ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। একই পরিবারের ৪ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন সাবেক রেজিস্ট্রারের সহচর চাঁপাই এই কর্মকর্তা। এছাড়াও সংগীতা মোরশেদ, শাহরীয়ার সাহান, নাজমুল আলম, মো. আব্দুস সালাম, এসএম রশিদুল হাসান, আশরাফুল আলম, সাবিহা আক্তার আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত। কাউন্সিল শাখার মতো স্পর্শকাতর জায়গায় কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রলীগের নেত্রী কানিজ তাসনিয়া ফেরদৌস। তার স্বামী বঙ্গবন্ধু ব্যাংক কর্মকর্তা পরিষদের সেক্রেটারী মো. মোজাম্মেল হক লেনিন। সাবেক রেজিস্ট্রারের আস্থাভাজন মানুষ মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সব সময় বিতর্কিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ছাত্রলীগের সম্পাদক বর্তমানে বাউবি যানবাহন শাখার সহকারী পরিচালক মো. ইউনুস আলী দশ বছর যাবৎ একই বিভাগে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ডাম্পিং গ্যারেজের কমিশন বাণিজ্যের। প্রকৌশল বিভাগের পরিচালকের জন্ম ১ জুলাই ১৯৮৩। বাউবিতে যোগদান করেন ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে বিভাগের তিনজনকে ডিঙ্গিয়ে দপ্তরের পরিচালক হন। পরীক্ষা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক আওয়ামীলীগের সাবেক নেতা জাকির হোসেন দুইটি বিভাগ ও ২টি শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। কুমিল্লায় বাড়ী হওয়ায় উপাচার্য ড. এম এ মান্নান তাকে ট্রেজারের পিএস এবং গোপন নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অভিযোগ আছে, তিনি ১৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাউবিতে একজন নার্স ও একজন উচ্চমান সহকারীসহ ৫ জনের নিয়োগ দেন। এই সিন্ডিকেটের সদস্য ইংরেজি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, আইকিউএসির সাইফুল ইসলাম, সোহাগ মিয়া। স্বঘোষিত নেতা সোহাগ মিয়ার নিয়োগ নিয়ে রয়েছে জটিলতা। ভিসির ভাগ্নিকে বিয়ে করে ৭/৮ জনের নিয়োগ দেন সোহাগ। উন্নয়ন পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা সাকের সিদ্দিকী। জুলাই অভ্যূত্থ্যান চলার সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় উত্তরা দক্ষিণখান ছাত্রলীগ ইউনিটের এই নেতা। এর ফলে ৭/৮ মাস নিজ বাসায় যেতে না পেরে আত্মগোপন করেন। মিডিয়া বিভাগের মো. আব্দুল কাইয়ুম, লাহুল মিয়া আওয়ামীলীগ আমলে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর বড় বড় বাজেটের ডকুমেন্টারি বানাতো। যেগুলোর কোন বাস্তব প্রয়োজন থাকত না। ৫ আগস্টের পর রং পাল্টিয়ে এখন বিএনপির নেতা তারা। লাহুল মিয়া তাঁর স্ত্রীর চাকুরীও বাগিয়ে নেন কৌশলে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেমায়েত আলীর স্ত্রী এসএসএস বিভাগের উপ-পরিচালক সায়েক লোহানী। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত পনেরো বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মস্থলে অনিয়মিত ছিলেন। বিদেশ ট্যুর দিতেন ৩ মাস অন্তর অন্তর। কাজে ফাঁকিবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ তাকে নিয়ে কথা বলতো না। বেসরকারি গার্মেন্টস সেকশন থেকে এসে মোটা অংকের বিনিময়ে সরাসরি পঞ্চম গ্রেডে যোগদান করেন কম্পিউটার বিভাগের জোবায়দুল হক। আইসিটির মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আছে ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ।

বাউবির সাবেক উপাচার্য এম এ মান্নানের ভাগ্নি জামাই সোহাগ মাহমুদ কুমিল্লার সকল নিয়োগের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত। একই সাথে তিনি কুমিল্লা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

আঞ্চলিক পরিচালকের মধ্যে খুলনার বিষ্ণুপদ ভৌমিক, বরিশালের আবু বাক্কার, ফরিদপুরের আ ফ ম মেসবাহউদ্দিন, সিলেটের মো. মকছেদার রহমানের বিরুদ্ধে আছে অর্থ আত্মসাৎ, কাজে অবহেলা, প্রতিষ্ঠান বিরোধী নানা কর্মকান্ডের অভিযোগ। মো. মকছেদারের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাকৃবির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার ছেলেসহ আরো ৮/৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কেন্দ্রের গেষ্টরুমে নিরাপদে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন মকছেদার রহমান। ব্যাপারটি জানাজানি হলে বাউবি অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে জুলাই অভ্যুত্থানকারীরা। পরে, স্থানীয় এলাকাবাসীর অনুরোধে তাদের নিবৃত করা হয়। এছাড়াও, পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার এক শিক্ষকের মাধ্যমে পদোন্নতির পাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত তিনি।

পতিত আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে কর্মসুচিতে দেখা গেছে বাউবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীকে। অধ্যাপক ড. কাজী গালিব আহসান, মো. ফরিদ হোসেন, রেজানুর রহমান, অধ্যাপক সুফিয়া বেগম, মোস্তফা আজাদ কামাল, কায়েস বিন রহমান, মহসিন উদ্দীন, জাহাঙ্গীর আলম, সরকার মো. নোমান, মামুনুর রশীদ, মেহেরীন মুনজারিন রত্না, তোফায়েল আহমেদ, শহীদুর রহমান, কামরুজ্জামান, রুমা আক্তার, নুর মোহম্মদ, মশিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, ড. আব্দুস সাত্তার, চাঁদ সুলতানা, শেখ ফরিদ প্রমুখ। মিডিয়া বিভাগের পরিচালক শরীফ মোহম্মদ শাহাবুদ্দিন, সোহেল আহমেদ, মো. আব্দুল কাইয়ুম ভুইয়া, রানা হামিদুর রহমান, মামুন হাসান, ওয়াহিদুজ্জামান, নার্গিস আক্তার, মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, মো. শাহরীয়ার করিম, মো. মোশাররফ হোসেন, সেতারা বেগম, মো. আমিনুল হক, নাসির উদ্দীন, মো. সাইদার হোসেন, নিকচন মিয়া, মো. সাকের সিদ্দীকী, মোস্তাক আহমেদ, মো. আব্দুস শাহীন, ফজলে আরেফিন, এসএম এমরান হোসেন, শাহনাজ পারভীন, উর্মি রহমান, রেশমা আক্তার, ড. মো. আজিজুল হক, মির তারেক হাসান, সমীর গোলদার, মোছাম্মত মমতাজ, দিদারুল আলম, মশিউর রহমান চৌধুরী, মো. আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আল-আমিন খান, তাহুর আহমেদ, মো. নাজমুল হক, মো.সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম, মো.সেলিম হোসেন, হানিফ হাওলাদার, সঞ্জয় কুমার সরকার, মাইনুল ইসলাম, আব্দুর রহমান হাওলাদার, তমালিকা মজুমদার, মনিরুজ্জামান মিয়া, মোহম্মদ জাহিদুল ইসলামের ছবি দেখা গেছে সাবেক এমপি, মন্ত্রীর সাথে।
এগুলো ছাড়া সাবেক রেজিস্ট্রার ড. শফিকুল আলম নিজ পরিবারের আত্মীয়, স্বজন ও অর্থের বিনিময়ে ডজনখানিক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়ে বাউবির শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা একাধিকবার উপাচার্যের নিকট অভিযোগ করলেও গায়ে মাখেননি সাবেক দুই কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি রেজিস্ট্রার নিয়োগে ড. শফিকের হাত আছে বলেও নানা প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও বাউবির শিক্ষক কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপ উপাচার্য বিরোধী প্রচারনায় ব্যাস্ত। এ বিষয়ে অর্থের যোগান আসছে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বণার্ঢ্য এক অফিসারের পকেট থেকে। তবে, পাশ্ববর্তী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক কর্মকর্তাদের চাকুরীচ্যুতি ও মব সৃষ্টি করে প্রশাসনকে অচল করে রাখার নজির থাকলেও বাউবিতে এখনো তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। গাড়ী ক্রয়, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং অর্থ তসরুপ সংক্রান্ত অভিযোগের উত্তরে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমি চাই বস্তুনিষ্ঠ তথ্যভিত্তিক নিউজ করেন। সরকারী গাড়ী চাইলেই কেনা যায় না, একটা নীতিমালা আছে। বাউবির ক্রয় কমিটি ও প্রকিউরমেন্ট শাখার সমন্বয়ে যাচাই করে তারপর পরবর্তী ধাপ। আর, নিয়োগ নিয়ে অনেক সুপারিশ আমার কাছে আসে, মেধা যাচাইয়ে যারা বঞ্চিত হন, বাদ পড়েন তারাই মনগড়া গুজব ছড়ান। বদলী সংক্রান্ত বিধিমালা মেনেই আমরা বদলী করেছি। কেউ ১৫/১৬ বছর ধরে বান্দরবান, সিলেট, টেকনাফ তেতুলিয়ায় চাকুরী করবে আর কেউ পুরো চাকুরী জিবন হেড অফিসে কাটিয়ে দিবেন এমনটা হতে দেবো না। নিয়োগপত্রের শর্তে ৩ বছর পরপর বদলীর বিধান আছে। তবে, নির্বাচনের পর আরো কঠোরভাবে বাউবিতে বদলীনীতি পালন করবো। এতে কাছের অনেকেই মনক্ষুন্ন হতে পারেন। চাকুরীচ্যুতি ও মব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা প্রশাসনিক কার্যালয়। চাকুরীচ্যুতির মতো ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। লক্ষ্য রাখবো কারও ওপর বেইনসাবি যেনো না হয়। আর মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। ভেতর কিংবা বাইরে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে আজকে থেকে কঠোর হবে বাউবি প্রশাসন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ