না ফেরার দেশে প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও শিল্পকলা পদকজয়ী সুনীল কর্মকার
সাগর বাদশা
ময়মনসিংহ: উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী এবং ২০২২ সালের শিল্পকলা পদকপ্রাপ্ত গুণী শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
মৃত্যুর কারণ ও পারিবারিক তথ্য
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিউমোনিয়া, রক্তে ইনফেকশন এবং বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত চার দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
এক নজরে সুনীল কর্মকারের জীবন ও কর্ম
সুনীল কর্মকার কেবল একজন গায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন লোকসংগীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
জন্ম: ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বারনাল গ্রামে।
দৃষ্টিহীনতা: শৈশবে মাত্র সাত বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে চোখের আলো না থাকলেও হৃদয়ের আলোয় তিনি সুরের জগত জয় করেছিলেন।
সংগীত সাধনা: প্রখ্যাত গীতিকবি ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁ-র আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন তিনি। বাউল গায়ক ইসরাইল মিয়ার কাছে তিনি দীক্ষা গ্রহণ করেন।
যন্ত্রসংগীতে দক্ষতা: তিনি একাধারে বেহালা, দোতারা, তবলা, হারমোনিয়াম, খমক ও খঞ্জনিসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে অসামান্য পারদর্শী ছিলেন।
সৃষ্টি: তিনি নিজে প্রায় ২০০টি গান রচনা করেছেন এবং অসংখ্য কালজয়ী লোকগানে সুরারোপ করেছেন।
সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও বাউল সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তার প্রয়াণে শোক প্র
কাশ করেছে।