সাগর বাদশা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারি এবং এর ঠিক আগে (১১ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং দলের শীর্ষ নেতারা বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
মূলত নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং দলের নেতাদের ওপর হামলার বিষয়গুলো সেখানে প্রাধান্য পেয়েছে।জামায়াত আমিরের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ফলাফল ঘোষণা নিয়ে কারচুপি
নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমির অভিযোগ করেন যে, অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঝুলিয়ে রাখছেন।
তার দাবি অনুযায়ী, কোনো কোনো কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব করে কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে।
২. ঠাকুরগাঁও জেলা আমিরের আটক ও ‘সাজানো নাটক’
নির্বাচনের আগে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে জামায়াত “পরিকল্পিত নাটক” হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের অভিযোগ:টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি সাজানো এবং নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এতে সরাসরি জড়িত।
জামায়াত দাবি করেছে, তাদের নেতার কাছে থাকা টাকা ব্যবসার লেনদেনের জন্য ছিল এবং ঢাকা বিমানবন্দর থেকে এর ছাড়পত্র ছিল।
৩. প্রশাসনের একটি অংশের পক্ষপাতিত্ব
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, প্রশাসনের একটি অংশ এবং ফ্যাসিবাদের দোসররা এক হয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিশেষ করে নীলফামারীর এসপির বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তারা।
৪. ভোটার ও এজেন্টদের বাধা প্রদান
নির্বাচন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে (যেমন- ভোলা, কুমিল্লা, বরগুনা ও নোয়াখালীর হাতিয়া) জামায়াত ও ঐক্যজোটের নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
৫. সাইবার আক্রমণ ও অপপ্রচার
আমির অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর ও নারীবিদ্বেষী পোস্ট করা হয়েছে। একে একটি “গভীর ষড়যন্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এর পেছনে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা এবং বিশেষ একটি গোষ্ঠী জড়িত।