সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনসহ আরও অনেকে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, স্তন ক্যান্সার এখন শুধু শহরের নয়, গ্রামাঞ্চলের নারীদেরও এক নীরব হুমকি। সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে নারীস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এনজিও ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে নারী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর ওপরও তিনি জোর দেন।
চিকিৎসকরা জানান, এখনো অনেক নারী লজ্জা বা অজ্ঞতার কারণে প্রাথমিক উপসর্গ দেখলেও চিকিৎসা নেন না। ফলে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয় এবং জটিল আকার ধারণ করে। সময়মতো চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষাই পারে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে।
সভায় সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে ক্যান্সারজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশই স্তন ক্যান্সারজনিত এবং নারীদের ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে ১৬.৮ শতাংশ স্তন ক্যান্সারে ভোগেন। তবে নতুন প্রযুক্তি ডিজিটাল ব্রেস্ট টোমোসিনথেসিস ব্যবহার করে স্তন ক্যান্সার শনাক্তের সাফল্যের হার প্রায় ৯৭ শতাংশ। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে মাইক্রোক্যালসিফিকেশন শনাক্তে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার ঘাটতি, দেরিতে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় বিলম্বই মৃত্যুহার বাড়াচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, স্ক্রিনিং ক্যাম্প ও জনসচেতনতা বাড়লে বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার মোকাবিলা অনেক সহজ হবে।