আজ শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (ঢাকা) কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনের কারণে বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান জানান, বেলা আড়াইটার দিকে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি গুদামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগুন লাগার সময় গুদামে বিপুল পরিমাণ পণ্য ছিল। এগুলোর অনেকেই দাহ্য পদার্থ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা আপাতত আগুনের বিস্তার রোধে কাজ করছি।’
🛫 যাত্রীদের দুর্ভোগ
আগুন লাগার কারণে বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকে ফ্লাইট বিলম্বের কারণে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অপেক্ষা করছেন।
এক যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ফ্লাইট বিকেল ৪টায় ছিল। এখন বলা হচ্ছে, ফ্লাইট বিলম্বিত। কবে ছাড়বে, কেউ সঠিক বলতে পারছে না।’
📦 সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী প্রভাব
কার্গো ভিলেজে দেশের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়। সেখানে আগুন লাগায় পণ্য সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক রপ্তানি কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার বিষয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
🚒 তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা
ঘটনার পরপরই সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
👉 উল্লেখ্য, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর। প্রতিদিন এখানে শতাধিক ফ্লাইট ওঠানামা করে। তাই এই ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ড শুধু যাত্রী ও পণ্য পরিবহনই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।