তরুণ সমাজ একটি দেশের প্রাণশক্তি ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ বলেছেন— “তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য অবক্ষয় রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবারই সমন্বিত দায়িত্ব রয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ, যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক দায়িত্বের ভার বহন করছে। অথচ মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং সেবার অভাবে তাদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ ও আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
ড. পলাশ বলেন, শিক্ষার প্রতিযোগিতা, বেকারত্ব, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ তরুণদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় “পারফেক্ট লাইফ”-এর প্রদর্শন তরুণদের মধ্যে হীনমন্যতা ও হতাশা সৃষ্টি করছে। শহর ও গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই মানসিক সহায়তার ঘাটতি তরুণদের সংকটে ফেলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতি সাতজন তরুণের একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। উন্নত দেশগুলো যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেন্টার ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এই সেবা এখনো সীমিত।
ড. পলাশ বলেন, পরিবারে খোলামেলা আলোচনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেন্টার, এবং সরকারি পর্যায়ে হেল্পলাইন চালু করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা ও সৃজনশীল বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড তরুণদের মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও সমাজ—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। শুধু সমস্যার কথা বললেই হবে না; বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।”
লেখকের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্ব না দিলে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়বে। তিনি মনে করেন—
“তরুণরা সুস্থ থাকলে দেশও সুস্থ থাকবে—এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং বাস্তবতার কঠিন সত্য।”
লেখক পরিচিতি:
ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ
সহকারী অধ্যাপক, স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআরআই)
এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ), কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া
📧 ইমেইল: rashed.polas@apu.edu.my