শাহজাদপুরে সিরাজুল ইসলাম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন — দেড় লক্ষ টাকায় ‘মায়ের কাছ থেকে ছেলেকে কিনে নিয়ে খুন’, জড়িত পাঁচজন গ্রেফতার
—
সা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চাঞ্চল্যকর সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ রাতে কৈজুরীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম (২৫) কে একই এলাকার ওমর আলী, শাওন, আলমাছ আলী ও আ. আলিম বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়।
কিন্তু সেদিন রাতে আর তিনি ফিরে আসেননি।
পরদিন ভোরে স্থানীয়রা পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়ির উত্তরে পাকা রাস্তার উপর সিরাজুল ইসলামের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেয়।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ।
ঘটনার পর শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার জনাব মো. ফারুক হোসেন–এর সার্বিক নির্দেশনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মো. হাফিজুর রহমান–এর নেতৃত্বে, সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মো. আসাদুজ্জামান শাকিল এবং শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. আছলাম আলী, পিপিএম–এর তত্ত্বাবধানে একটি যৌথ চৌকস টিম গঠন করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহজাদপুর এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন —
১️⃣ মো. আল আমীন মন্ডল (৩৮),
২️⃣ মো. সেলিম মন্ডল (৩২),
৩️⃣ মো. আমিরুল ইসলাম (৩৩),
৪️⃣ মো. ওমর ফারুক (৩৮),
৫️⃣ মো. আব্দুল গফুর প্রামানিক (৫৫) — সকলেই পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেফতারের পর আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে অভূতপূর্ব এক হত্যার পরিকল্পনার গল্প।
জবানবন্দিতে আসামিরা জানায় —
স্থানীয় দুই গোষ্ঠী, মুসা মন্ডল–গফুর প্রামানিক বাহাম এবং চুন্নু মেম্বার–খোকন চেয়ারম্যান বাহামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
২০২১ সালে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার আপসের সময় টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।
অভিযুক্তদের এক নারী সহযোগী (ছদ্মনাম: সমাপ্তা) ভিকটিমের মায়ের কাছে গিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করার প্রস্তাব দেয়।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে সে দেড় লক্ষ টাকা ভিকটিমের মাকে দেয়, যেন তার ছেলেকে “হাতে তুলে দেওয়া হয়”।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাতে সিরাজুলকে ডেকে এনে এক আসামির বাড়িতে রাখা হয়।
পরে গভীর রাতে হত্যাকারীরা গামছা দিয়ে তার গলা চেপে ধরে ও ধারালো ছোরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে হত্যা করে এবং রাস্তার পাশে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ বলেছে, এই ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে — তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের এই দ্রুত তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটনে স্থানীয় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে।