লেখক, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাঈমুল রাজ্জাক বলেছেন, শিশুর মানসিক বিকাশে সামাজিকীকরণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্থ পরিবার, সহনশীল সমাজ এবং সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ একজন শিশুকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি শিশুদের মানসিক বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।
পরিবারই শিশুর প্রথম শিক্ষাগার
পরিবার শিশুর মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে নাঈমুল রাজ্জাক বলেন, “পরিবার হচ্ছে শিশুর প্রথম শিক্ষালয়, যেখানে সে ভালোবাসা, স্নেহ, নিরাপত্তা এবং স্বীকৃতি পায়। পরিবারের ইতিবাচক যোগাযোগ শিশুর ভাষাগত দক্ষতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, চিন্তাশক্তি এবং আত্মবিশ্বাস গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।”
সমাজ শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে
সমাজ শিশুর দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভালো সামাজিক পরিবেশ শিশুকে দায়িত্ববোধ, সহিষ্ণুতা ও মানবিকতার মতো গুণ শিখতে সাহায্য করে। একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরাপদ সমাজ শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাকে সামাজিক জীবনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করে।”
শিক্ষা ও সংস্কৃতির সৃজনশীল ভূমিকা
শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিশুর মানসিক বিকাশের অপরিহার্য অংশ বলে তিনি জানান। প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয়, নৈতিক শিক্ষা, সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও নাটকের মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুর সংবেদনশীলতা, সৃজনশীলতা এবং সৌন্দর্যবোধ বিকাশে অসাধারণ ভূমিকা রাখে।
উদার সমাজ শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়
একটি মানবিক ও সহনশীল সমাজ শিশুর ভবিষ্যৎকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, “সমাজ যদি শিশুদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে, তাহলে তারা আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।”
সাক্ষাৎকারের শেষে নাঈমুল রাজ্জাক বলেন, শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই ভবিষ্যৎ সমাজ আরও মানবিক, সৃজনশীল ও সুন্দর হবে।