1. sdamit152@gmail.com : Amit Sutradhar : Amit Sutradhar
  2. anandahotcool@gmail.com : Ananda Dada : Ananda Dada
  3. BishwajitSutradhar2687@gmail.com : Bishwajit Sutradhar : Bishwajit Sutradhar
  4. admin@dailyajkernews.com : dacaught :
  5. dinmdrajib2016@gmail.com : Din Md Rajib : Din Md Rajib
  6. mdpallabsarkar6@gmail.com : MD Pallab Shorwer : MD Pallab Shorwer
  7. padistsagor1234@gmail.com : Sagor Badhsa : Sagor Badhsa

শিরোনাম
আজ আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি স্কাইডাইভিংয়ে সর্বাধিক পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড বাংলাদেশের বাংলাদেশ সীমান্তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমানঘাঁটি নেটওয়ার্ক ফের চালু করবে ভারত মমতাজ বেগমের ৩ বাড়িসহ জমি জব্দের নির্দেশ আদালতের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্নার মাগফেরাত কামনা ও শীতার্তের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন ঢাকা-১৫ আসনে ২০২৬ নির্বাচনে দুই শফিকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ভিপি আয়নুল হক সিরাজগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ২য় সমাবর্তনে ওয়ারফেইজের জমকালো পারফরম্যান্স জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত, স্বর্ণপদক পেলেন ৯৬ কৃতি শিক্ষার্থী মাইক্রোবায়োলজি টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি: প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক / ৩৯২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪

চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে । চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যা করা হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে (৩৮) গতকাল বেলা ১১টায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। সূত্র জানান, শুধু রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ নয়, ২০২৩ সালের জুনে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ‘ইসকন’ আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা অফিসের পরিচালক কমলেশ কৃষ্ণ দাস স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীকে মন্দির এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের সব ধরনের কর্মকা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ধর্মীয় উপাসনালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইসকনের স্থাপনায় রাতযাপনের অনুমতি এবং ১৮ বছরের নিচের বয়সের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ঢাকার তিন এলাকা ও চট্টগ্রামে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চিন্ময়ের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

আদালতপ্রাঙ্গণে আইনজীবীর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহত ছয়-সাত জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গতকাল বিকাল ৪টার দিকে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে পাঠানোর সময় এ হত্যাকা সংঘটিত হয়। এ হত্যার জন্য তাঁর সমর্থকরা দায়ী। আহতের সংখ্যা ২০-এর মতো। নিহত সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি। তাঁর বাবার নাম জালাল উদ্দিন।

তাঁকে হত্যার পর চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বিক্ষোভকারীরা এক আইনজীবীকে চেম্বারের নিচ থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। নিহত আইনজীবীর নাম সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ (৩৫)। তিনি সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি)।

চমেক হাসপাতাল, পুলিশ ও আদালতসূত্রে জানা যায়, আইনজীবী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে আদালত এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আটকে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে নিয়ে যায়। এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে দুইপক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে লালদীঘি এলাকায় আইনজীবীসহ বিপুল সংখ্যক জনতা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ওই এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন। এ সময় লালদীঘি, আন্দরকিল্লা ও নিউমার্কেট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ছয় প্লাটুন বিজিবি। সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘লালদীঘির পাড়ে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী ?গুরুতর আহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন আছে।’

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুসারীরা। আদালত থেকে বের করে তাকে প্রিজনভ্যানে তোলার পর প্রায় তিন ঘণ্টা আদালত চত্বরে প্রিজনভ্যান আটকে বিক্ষোভ করেন শত শত নারী-পুরুষ। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে প্রিজনভ্যানের ভিতর থেকেই চিন্ময় কৃষ্ণ তার ভক্ত-অনুসারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রিজনভ্যান থেকে হ্যান্ডমাইকে তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নই। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে যে রাষ্ট্র নির্মাণের আশা করা হয়েছে আমরা সনাতনীরা তার অংশীদার। সুতরাং রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নষ্ট হয় আমরা এমন কিছু করব না। আবেগ সংযত করে শক্তিতে পরিণত করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবেন। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৮ দফা মৌলিক দাবি। অযৌক্তিক দাবি নয়। এটা পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা আন্দোলন চালাবেন। কিন্তু দয়া করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং পরস্পর সৌহার্দপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করবেন। এটা আমি আপনাদের কাছে আশা করছি।’ এরপর প্রায় পৌনে ১টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে একপর্যায়ে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলেও তারা প্রিজনভ্যান আটকে বিক্ষোভ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা প্রিজনভ্যান আটকে রাখার পর বেলা ৩টার দিকে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। বিক্ষোভরতদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ শুরু করে। বিক্ষোভরতদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একপর্যায়ে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায়ও আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এরপর সনাতনীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে লালদীঘি-কোতোয়ালি সড়কের রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে অবস্থান নেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আইনজীবীসহ প্রায় ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৯ জনকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। আজ সব আদালতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘কোর্ট বিল্ডিং থেকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীরা যেদিকে পেরেছে সেদিকে হামলা করেছে। গাড়ি ভাঙচুর করেছে, মসজিদের গ্লাস ভাঙচুর করেছে। এ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে আমাদের একজন আইনজীবী যিনি মারা গেছেন সাইফুল ইসলাম আলিফ, তাকে ধরে মেথর পট্টিতে নিয়ে কুপিয়েছে ইসকনের সন্ত্রাসীরা। এর জন্য আমরা সমিতির পক্ষ থেকে জরুরি মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মহানগর দায়রা জজ, জেলা দায়রা জজ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সকল আদালতের কার্যক্রম আমরা সাসপেন্ড ঘোষণা করছি।’

চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ : বাংলাদেশের ইসকন সংস্থার প্রধান ও সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন খারিজ হওয়ায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের চরমপন্থি গোষ্ঠীর দ্বারা লাগাতার হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণের ধারাবাহিকতায় এই গ্রেপ্তার ঘটেছে। বহু সংখ্যালঘুর আবাস এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং লুটপাটের বহু প্রমাণিত তথ্য এসেছে। একই সঙ্গে বহু মন্দিরে চুরি এবং কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক- হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে এক ধর্মীয় নেতা ন্যায্য দাবি জানাচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়- আমরা এও লক্ষ্য করেছি, চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারে যারা প্রতিবাদ করছেন, সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করছে- হিন্দুসহ সব সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা হোক।

এ ব্যাপারে দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ