৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পলায়নের পর সিলেট নগরীর বালুচরে জমি দখলে থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি সব ধরনের অপকর্মে জড়িত হচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের ২ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাইদুল আলম লাহিন এবং এনামুল হক শামীম। তাদের দাপট থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সেখানকার দিনমজুর থেকে শুরু করে প্রবাসী বাড়িওয়ালা। প্রশাসনকে এসব দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা অনুরোধ করছেন সচেতন সমাজ।
জানা যায়, ৫ আগস্টের আগে এসব অপকর্ম করতে সাইদুল আলম লাহিন এবং এনামুল হক শামীম আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যবহার করতেন। তবে পটপরিবর্তনের পর ভোল পালটে এখন বিএনপির শাহপরান থানার বালুচরের প্রভাবশালী নেতা বনে গেছেন।
জানা গেছে, আধিপত্য ধরে রাখতে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি বাহিনী গঠন করেছেন লাহিন-শামীম। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে লাহিন স্বেচ্ছাসেবক দলের এবং শামীম যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়রা লাহিন এবং শামীমের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললেই রাতের আঁধারে বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের সব থেকে বড় টার্গেট লন্ডন প্রবাসীর বাড়ি । কেয়ারটেকারদের কাছে বারবার চাঁদা চাওয়া এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি বালুচর নতুন বাজার লন্ডন প্রবাসীর মার্কেট দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। মার্কেট ও এলাকার বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক সেখানকার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেন প্রতিনিয়তই। জড়ান দখলবাজিতে। তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে এলাকা ছাড়া হতে হবে।
এলাকাবাসীরা বলেন, ডাকাতি-মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডেও লিপ্ত রয়েছেন তারা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদের মার্কেট দখল করতে সন্ত্রাসী হামলাও করেন তারা। এর ঘটনার পর বাড়ির কেয়ারটেকার শাহপরান থানা সাধারণ (ডায়েরি নং-২৩৩) করছেন।
সূত্র জানায়, লাহিন এবং শামীম কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করেন। ৫ আগস্টের পর থেকে লাহিন শামীম চক্র তারা এলাকায় নাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে ।
লন্ডন প্রবাসী এক মহিলা বলেন, ৩৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবেক ছাত্র লীগের সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপুর পক্ষে এই ১৫ বছর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করতেন লাহিন এবং শামীম। বালুচরে ৩৬ নং ওয়ার্ডের ১১৫ নাম্বার বাসা ভাড়া নেন লাহিন পরে বাসাটি জোরপূর্বক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দখল করেন। সাবেক কাউন্সিল আজাদের সহযোগিতায় লাহিন ,মামুন, ওপু মিয়া ,আব্দুল গওফার ,কাছা মিয়া গেদু মিয়া শামীম মিয়া দখল করে আছে ।
এই প্রতিবেদক লাহিন এবং শামীমের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে প্রতিবেদকে অপমান জনক কথা বলে তারা চলে যান ।পরে এই এলাকার বাসিন্দারা বলেন আমরা লাহিন এবং শামীমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নিব, প্রশাসনকে অনুরোধ করব দুষ্কৃতকারী ও সমাজবিরোধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার।