শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো, পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিল করা। বাকি দুই দাবি হলো, ফ্যাসিস্ট আচরণের অভিযোগ থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিচার করা এবং সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া দুই শিক্ষকের বিষয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে কারণ দর্শানো।
পোষ্য কোটা বাতিলসহ তিন দফা দাবি আদায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছে, দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে কেউ প্রবেশ বা বের হতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো, পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাতিল করা। বাকি দুই দাবি হলো, ফ্যাসিস্ট আচরণের অভিযোগ থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিচার করা এবং সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া দুই শিক্ষকের বিষয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে কারণ দর্শানো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমরা সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন ১ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে তালা থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মানার পরিবর্তে অন্যায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে। এই অনিয়মের জন্য ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে ক্ষমা চাইতে হবে।
এ বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখা যৌক্তিক। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। অভিযোগ পেলে আমরা ফ্যাসিস্ট আচরণের জন্য তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরো বলেন, সহকারী প্রক্টর নিয়োগে তথ্যগত ত্রুটি ছিল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।
প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির জরুরি সভায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সন্তানদের এক শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে ও তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।